২১ জানুয়ারি ১৯৭২: বিশ্ব শান্তির কথা শোনালেন বঙ্গবন্ধু

1260

Published on জানুয়ারি 21, 2020
  • Details Image

২১ জানুয়ারি ১৯৭২। এই দিনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে বিশ্ব শান্তির বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকারের নীতি ও অবস্থান ঘোষণার কারণে। এছাড়াও এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপের ঘোষণাও আসে।  

এই দিনটিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যরা সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এসময় বঙ্গবন্ধু তাদের জানান, তার সরকার বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাসী।  রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য শান্তি প্রয়োজন।

এদিন, বাসসের বরাত দিয়ে দৈনিক বাংলা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যদের বলেন, ‘আমি শান্তিতে বাস করতে চাই, যুদ্ধে বিশ্বাস করি না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বর্বরের হাত থেকে তার দেশকে মুক্ত করেছে।’

বঙ্গবন্ধু ‍বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যদের আশ্বাস দেন যে, তার সরকার পরাধীন মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন দেবে। তিনি বলেন, ‘নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হবেই।’ নিরাপরাধ কারও সাজা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘অসামরিক মানুষদের এই নিধনযজ্ঞের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনে জাতিসংঘের এগিয়ে আসা উচিত। যারা এই হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় অংশ নিয়েছে বা এই পরিকল্পনার জন্য দায়ী, তাদের অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের আওতার বাইরে বাস করছে। ন্যায়বিচারের জন্য তাদের দৃষ্টিগোচরে আনা উচিত।’

বঙ্গবন্ধুর কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রতিনিধি দলের নেত্রী মাদাম ইসাবেলী বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি গণহত্যা তদন্ত কমিশন চায়, তবে তার দল সেটি প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির কাছে পেশ করবে।’ মিরপুরের শিয়ালবাড়ীর বধ্যভূমি পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নেত্রী বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘এ বধ্যভূমি জার্মানির বন্দি শিবিরের অনুরূপ। এ বধ্যভূমির হত্যাযজ্ঞ নাজিদের গ্যাস চেম্বারকে হার মানিয়েছে।’

যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা হচ্ছে

যেসব ব্যক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাদের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হচ্ছে। বাসস বলছে, এই তালিকায় দুই শতাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন— ‘পাকিস্তান বাহিনীর বিচার হয় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা করবে, নতুবা ন্যায়বিচার হয়েছে এটা যেন বাংলাদেশের জনগণ অনুধাবন করতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপ

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপ করা হয়েছে বলে বাসসের খবরে প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের যাবতীয় দেনা-পাওনা পরিষদকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বা স্বাধীনতার পরপর প্রশাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এসব পরিষদ যে কাজগুলো করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী পরিষদের প্রতি দেনা-পাওনা হিসাব-নিকাশ ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্থবিভাগে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে।’ রুশ সংবাদ সংস্থা এপিএনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সবসময় সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকার জন্য সোভিয়েত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বঙ্গবন্ধু। এপিএন ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের পুনর্বাসনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও কর্ম সংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। এসব বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্রকামী বাঙালিরা বিগত কয়েক বছর প্রতীক্ষায় ছিল।’

বাংলাদেশ মহান দেশ হবে

ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক চেয়ারম্যান ডি পি ধর বাংলাদেশ মহান দেশ হবে বলে ভবিষ্যৎ বাণী করেন। বাসসের সংবাদে জানানো হয়, নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডি পি ধর এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান বাংলাদেশের আছে সুমহান ভবিষৎ।’ বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় এসেছেন। কিছু সমস্যা ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও সাংবাদিকদের জানানো হয়।

সৌজন্যেঃ বাংলাট্রিবিউন

প্রকাশঃ ২১ জানুয়ারি ২০২০

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত